১৬ কার্তিক ১৪৩৩ • --:--
ডেইলি চৌদ্দগ্রাম

সত্যের সাথে, সবসময়

ব্রেকিং নিউজ
অর্থনীতি

ঘোষণার ১২ দিনেও শুরু হয়নি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া

ডেইলি চৌদ্দগ্রাম ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ণ ১৬ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ঘোষণার ১২ দিনেও শুরু হয়নি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া
মালয়েশিয়া শ্রম বাজার

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও ১২ দিনেও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ, রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্ব বণ্টন, কর্মী নিয়োগের নিয়ম এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র অনুমোদন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগত ঘোষণা এলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩১২ এজেন্সি, ২৫ প্রসেসিং প্রতিষ্ঠান

নতুন ব্যবস্থাপনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি রাখার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তবে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের অভিযোগ, কোন প্রক্রিয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে, কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা খরচ হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পাওয়া দুটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, অভিবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সম্পর্কে তাঁরা এখনো পর্যাপ্ত তথ্য পাননি।

অভিবাসন ব্যয় ও এজেন্সির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দিলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। কর্মী নিয়োগের প্রতিটি ধাপ, এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব এবং অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের নিয়ম স্পষ্ট করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ১০০টি প্রসেসিং এজেন্সি ছিল, এবার সেখানে ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আট শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির পরিবর্তে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে প্রসেসিং এজেন্সি অথবা বোয়েসেলের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ব্যবস্থায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক নিয়ে জটিলতা

২০২২ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন তৈরির সময় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা। এ কারণে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পরিবর্তন বা নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক ও প্রক্রিয়াগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মী নিয়োগ, এজেন্সি নির্বাচন, অভিবাসন ব্যয় এবং কর্মী পাঠানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগেই স্পষ্ট ধারণা দেওয়া প্রয়োজন ছিল।

কর্মী পাঠানো নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা: বায়রার সাবেক মহাসচিব

বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়ায় তাঁরা খুশি। তবে কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো হবে এবং কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না পাওয়ায় অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

মালয়েশিয়া যেতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র অনুমোদন হয়নি

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল সেন্টার অনুমোদনের বিষয়টিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৫টি মেডিক্যাল সেন্টারকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহ অথবা পরবর্তী সপ্তাহে মেডিক্যাল সেন্টারের অনুমোদন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক কর্মীকে কত টাকা ফি দিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

নভেম্বরের মাঝামাঝি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর আশা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা আগামী সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হতে পারে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার আশা করা হচ্ছে।

তবে এটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যাশা; আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে একে বিবেচনা করা যাবে না।

শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হতে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি?

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা কিছুটা অপরিপক্ব মনে হয়েছে। কারণ, দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী চুক্তিতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা যেতে পারে।

তাঁর মতে, এসব বিষয় সমাধান না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হতে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা এখন স্পষ্ট নির্দেশনার দিকে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ, এজেন্সি নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিয়োগের শর্ত সম্পর্কে স্বচ্ছ নির্দেশনা প্রকাশ করা জরুরি।

বিশেষ করে কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, প্রতারণা এবং অননুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের ঝুঁকি কমাতে সরকারি তদারকি ও অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্ট হওয়ার পরই কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কত দ্রুত এগোবে, তা বোঝা যাবে।

গ্যালারি

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।